|
PART - 03
|
অর্থ
পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য মানুষের এখন
মূল প্রয়োজন এখন – অর্থ। মানুষ আজ যা কিছুই করে চলেছে, সবই এই অর্থের জন্যেই।
মানুষের দিন যাপনের জন্য, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শুধু অর্থের চিন্তা করে ও আয় করে
বয়ে যায়। কেউ কি ভেবে দেখেছি, আসলে কেন এই অর্থের প্রয়োগ??
এই প্রশ্নের উত্তরে সবাই হয়তো বলবে;
সুষ্ঠভাবে জীবন পরিচালনার জন্যে, খাবার জন্যে, থাকার জন্যে, বিভিন্ন প্রসাধনী ও
পণ্য আদান প্রদানের জন্যে ইত্যাদি। শুধু মানুষ নয়, পৃথিবী আজ এগুচ্ছে অর্থের
জোড়েই।।
আমার মতে, মানুষ অর্থ প্রয়োগ করে চলেছে
অন্য মানুষকে হেনস্থা করার জন্য। পৃথিবীতে সব কিছুই সৃষ্টি হয়েছিল ভালোর জন্যেই; কিন্তু,
এই অর্থের ব্যবহার্য সব বিষয়বস্তুকে আমি ভালো হিসেবে মানতে পারি না।।
পবিত্র ধর্ম গ্রন্থগুলোতে কোথাও অর্থের
কোন ব্যবহারের বিষয়ে কিছু উল্লেখ নেই। সবখানে এটাই বলা হয়েছে যেঃ মানুষ যেন অন্য
মানুষকে ভালোবাসে এবং ভালোবেসেই যেন সবকিছু একে অন্যের সাথে সহভগাগিতা করে চলে।
তার মানে, আমার কাছে যদি কোন কিছু অতিরিক্ত থাকে, যার প্রয়োজন তার সাথে যেন মন
থেকে সহভাগিতা করি। তাহলে, কী মূল্য রইলো পবিত্র ধর্ম গ্রন্থগুলোর মধ্যে অঙ্কিত
এসব বাক্যের??
আমরা মানুষ, অর্থ অর্থ করে আজ, অর্থের
জন্য হয়ে গেছি দাস। এই ২১শ শতাব্দীতে আজ ভালোবাসা, সম্মান, মর্যাদা, সুখ, আনন্দ –
সব কিছুই যেন অর্থের উপরই নির্ভরশীল। কিন্তু, এগুলোই এক সময় জীবন চলার মূলমন্ত্র
ছিলো।।
মানুষ এখন ভালোবাসা, সম্মান, সুখ ও আনন্দ পেতে অর্থের
প্রাচুর্য গড়তে চায়। তবেই নাকি সব পাওয়া!! কিন্তু, আদৌ কেউ পেয়েছে বলে আমার মনে হয়
না। কাউকে ভালোবাসতে বা সম্মান পেতে যদি অর্থ-কে কেন্দ্র করা হয়, তবে তা কেমন
ভালোবাসা?? কেমন সম্মান?? মানুষের কি তবে এই সময়ে – মন বলতে আর কিছুই নেই??
আমরা সবাই শুনেছি ও জেনেছিঃ ভালোবাসা
পেতে হলে, আগে নিজে ভালোবাসতে হবে; সম্মান পেতে চাইলে, আগে অন্যকে সম্মান করতে
হবে; আনন্দিত হতে হবে অন্যের সুখে, ব্যথিত হতে হবে অন্যের দুঃখে – তবেই তা ফিরে
ফিরে আসবে। কিন্তু, এখন এখানে দেখছি যে, সবই বেচাকেনা হয়!! সাময়িক তৃপ্তি কি তবে
ভবিষ্যতের সব???